গাজীপুরের শ্রীপুরে ফরিদ সরকার (৪৫) নামে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এক নেতাকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের লতিপুর গ্রামের কেবিএম ব্রিকস নামে একটি ইটভাটায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ফরিদ সরকার শ্রীপুর উপজেলায় গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদ সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি একটি ইটভাটার ব্যবসা শুরু করেন।
পরিবার দাবি করেছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি একটি মামলা চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে লতিপুর গ্রামের কাশেমের ইটভাটায় ফরিদ সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান সবুজের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরিদ সরকারকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি নাছির আহমেদ আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফরিদ সরকার তার এক বন্ধুর সঙ্গে ইটভাটায় যান। সেখানে অবস্থানকালে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ফরিদ সরকারকে রাস্তার দিকে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ইটভাটার ম্যানেজার, সিকিউরিটি গার্ডসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। ফরিদের সঙ্গে থাকা বন্ধুর সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন