আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও এখনো প্রায় ৬ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের পাওনা বকেয়া রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের আগেই এসব কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের চেষ্টা চলছে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে প্রায় তিন হাজার তৈরি পোশাক ও উৎপাদনমুখী কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কারখানায় ইতোমধ্যেই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। অনেক কারখানায় মার্চ মাসের আংশিক বেতনও দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে অধিকাংশ কারখানা ঈদের ছুটি ঘোষণা করবে। ইতোমধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধের পর প্রায় ২৫ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল আরও অনেক কারখানা ছুটি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
তবে সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৬ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ হয়নি। এসব কারখানায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
এদিকে বেশিরভাগ কারখানায় বেতন-ভাতা পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অনেকেই জানান, ঈদের আগে বেতন হাতে পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারছেন তারা। এতে ঈদের আনন্দও বেড়ে গেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মার্চ মাসের আংশিক বেতনও দিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সরকার ও ব্যাংকগুলোর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া গেছে। ফলে ঈদের ছুটির আগেই প্রায় সব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চল ২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, অধিকাংশ কারখানায় ইতোমধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে এবং অনেক কারখানা ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে। যেসব কারখানায় এখনো বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং মালিকদের দ্রুত বেতন পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত শিল্প পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখবে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
গাজীপুরে উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর অধীনে প্রায় তিন হাজার কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় একটি অংশ ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
-20260316190945.webp)

