ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শিশুদের টিকার ঘাটতি হবে না : প্রতিমন্ত্রী

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
কথা বলছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গাজীপুরের সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬ শুরু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সব শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ টিকার কোনো ঘাটতি হবে না।

তিনি আরও জানান, সরকারের পাশাপাশি বিশ্বের কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থা এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৫ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত গাজীপুর জেলায় প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা নিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে টিকাদান কার্যক্রমে অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুদের কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অনেককে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা প্রদান করেন। টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মুঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর জেলা প্রশাসক নূরুল কবির ভূঁইয়া এবং পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন।

তাঁরা টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশের টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী মির্জাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেন্দ্রটি চালু না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে তাদের দূরে যেতে হচ্ছে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সচল রাখা জরুরি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে মির্জাপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাবেন।

হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।