ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গাজীপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে গৃহবধূর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ১২:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে ফারজানা আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় কোনাবাড়ী থানাধীন নতুন বাজার নিউমার্কেট এলাকার রাজুর বাড়ির একটি টিনশেড কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত ফারজানা আক্তার রাজধানীর মিরপুরের বিহারি পট্টি এলাকার বাসিন্দা আইয়ূব আলীর মেয়ে। তিনি স্বামী মো. বাবুর সঙ্গে কোনাবাড়ীর ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রাজুর বাড়ির টিনশেড কলোনির একটি কক্ষ থেকে তীব্র পোড়া গন্ধ বের হতে থাকে। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় আশপাশের বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন টিনের বেড়া কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে ফারজানা আক্তারের আগুনে পোড়া মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ সময় স্থানীয় এক বাসিন্দা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিন তেলের একটি বোতলও উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্বামী মো. বাবু (৩৫) ও বাড়ির কেয়ারটেকার রোমান (২৭)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

নিহতের স্বামী বাবু দাবি করেন, বাড়ির কেয়ারটেকার রোমানের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক চলছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি স্ত্রীকে ঘরে রেখে দরজায় তালা দিয়ে কোনাবাড়ী বাজারে যাই। কিছুক্ষণ পর খবর পাই, আমার স্ত্রী আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

তবে স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটিকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ এটিকে আত্মহত্যা, আবার কেউ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডও হতে পারে বলে ধারণা করছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার আগে দাম্পত্য কলহ নিয়ে প্রায়ই ওই বাসা থেকে ঝগড়াঝাঁটির শব্দ শোনা যেত। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ফারজানা আক্তার নামে এক গৃহবধূর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্বামী ও কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।