× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

নারী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। এ সময় তারা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

নিহত শ্রমিকের নাম লিজা আক্তার (৩৬)। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী। শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে তিনি কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডে কাজ করতেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন লিজা। পরে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে অসুস্থতার কারণে তিনি ছুটি চাইলেও কর্তৃপক্ষ তা মঞ্জুর করেনি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকেরা। একই রাতে মোছা. শোভা নামের আরও এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, কারখানাটিতে নিয়মিত দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়। সকাল আটটায় কাজ শুরু হলেও অনেক দিন মধ্যরাত কিংবা রাত দুইটা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। পরদিন আবার সকালেই কাজে যোগ দিতে হয়। এতে শ্রমিকেরা শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে থাকেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগও তোলেন তাঁরা।

কারখানার শ্রমিক রাজিয়া বলেন, লিজা অসুস্থতার কারণে আগে ১৫ দিনের ছুটিতে ছিলেন। ছুটি শেষে কাজে যোগ দেওয়ার পরও তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। কিন্তু তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি।

আরেক শ্রমিক আল আমিন বলেন, অসুস্থ হলেও শ্রমিকদের ছুটি দিতে অনীহা দেখানো হয়। লিজাও ছুটি পাননি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বিজন মালাকার বলেন, বুধবার রাতে লিজা নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

আল হেরা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চিকিৎসক আবুল হোসেন বলেন, শোভা নামের এক নারী শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড ছাড়াও নোমান উভিং টেক্সটাইল, এমএইচসি গার্মেন্টস ও ত্রিপল গার্মেন্টস লিমিটেডে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত ছিল বা কারা উসকানি দিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, একজন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!