হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিরাট (উজানপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতরা হলেন—দিলকুশ মিয়া (৪০), মহিবুর মিয়া (৪৫) ও বারাম মিয়া (৪৮)। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন জয়নাল আবেদীন (৫৫), সেকুল মিয়া (৪৮), রুমন মিয়া (২২), উজ্জ্বল মিয়া (২০), পাবেল মিয়া (২৪), হুসাইন মিয়া (২১), কাবিল হোসেন (৩৫), নিজাম উদ্দিন (৫৫) ও মহিবুল রহমান (৪৫) প্রমুখ। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের বিরাট উজানপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ঈসমাইল হোসেন সরসের পক্ষের লোকজন ও একই গ্রামের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান মজুর পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সরস পক্ষের মোতাহির মিয়ার ছেলে নীলয়ের সঙ্গে মজু পক্ষের মোতালিব মিয়ার ছেলে বজলু ও মহিবুরের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান মজু বলেন, জলমহালসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নামাজে যাওয়ার পথে তাঁর ছেলেকে মারধর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঈসমাইল হোসেন সরস মুঠোফোনে বলেন, তিনি রোগী নিয়ে ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবেন।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবার হোসেন বলেন, সন্ধ্যার বাকবিতণ্ডার জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন