জামালপুর পৌর শহরের জঙ্গলপাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে বেঁধে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে ডাকাত দল। সোমবার রাত ২টার দিকে জঙ্গলপাড়া এলাকার মিয়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের সদস্যরা ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর করে দুজনকে দুটি কক্ষে বেঁধে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়।
ডাকাত দলের মারধরের শিকার দম্পতি সৈয়দ আবদুল আল মাসুদ (৭০) ও রেহানা বেগম (৬০)। ছেলেমেয়েরা বাড়ির বাইরে থাকায় ওই বাড়িতে একা বসবাস করেন এই দম্পতি।
ভুক্তভোগী সৈয়দ আবদুল আল মাসুদ দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী দুজন বাড়ির দোতলায় আলাদা কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত ২টার দিকে ঘরের দরজা ভাঙার শব্দে তার ঘুম ভাঙে। এরই মধ্যে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের ড্রয়িংরুমে ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে ছুরি ও শাবলসদৃশ লোহার রড ছিল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডাকাত দলের তিন সদস্য তার কক্ষে প্রবেশ করে এবং একজন তার স্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করে।
তিনি জানান, ডাকাতরা তাকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করলে তিনি বাধা প্রদান করেন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে ডাকাতের হাতে থাকা চাকুর আঘাতে তার হাতের দুটি আঙুল কেটে যায় এবং প্রচণ্ড রক্তপাত হয়। পরে ডাকাতরা তার চোখ, হাত ও পা বেঁধে বিছানায় ফেলে তাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর ডাকাতরা আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, প্রায় এক ঘণ্টা লুটপাটের পর ডাকাতরা চলে গেলে তারা চিৎকার শুরু করেন। সে সময় স্থানীয়রা আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় বাসায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী রেহানা বেগম জানান, ডাকাতরা তার স্বামীর ঘরে ঢোকার পর তার স্বামী চিৎকার করতে থাকলেও কিছুক্ষণ পর সেই চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান তিনি। সে সময় ডাকাত দলের এক সদস্য তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। একপর্যায়ে তার মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ডাকাত দলের সদস্য। পরে তাকে বিছানায় ফেলে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় ডাকাতরা এবং সারাঘর তছনছ করে টাকা ও স্বর্ণ লুট করে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ করে বলে—চাচি যাইতাছিগা, এখন ঘুমান।
ডাকাতরা আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা ও ২০ ভরির ওপর স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি রেহানা বেগমের। এ সময় লুট হওয়া স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
জামালপুর সদর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সদর থানা পুলিশ। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন