জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে যমুনার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়কের হুদার মোড়ের অন্তত ৪০০ মিটার। এ ছাড়াও চর ডাকাতিয়া পাড়া ও হাজারি গ্রামের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙছে প্রতিনিয়ত। ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা, চর মাগুরিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, খোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বহু স্থাপনা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সরজমিন ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার ভাঙনে দেওয়ানগঞ্জ খোলাবাড়ি সড়কের হুদার মোড় এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার যমুনার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে দেওয়ানগঞ্জ সদরের সঙ্গে বাহাদুরাবাদ নৌ-থানাসহ অন্তত ৫ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে চরম কষ্ট আর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে খোলাবাড়ী, হাজারীপাড়া, চর মাগুরীহাট, হরিচন্ডী, আজিজলপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিত্যপ্রয়োজনে চিকাজানী ইউনিয়ন ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সদরসহ জেলায় যাতায়াত করে থাকেন।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যথাসময়ে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সড়কটির আজ এ অবস্থা হতো না।
মন্নিয়ার চরের বাসিন্দা আ. রউফ, খোলাবাড়ীর ইদ্রিস আলী ও চর বাহাদুরাবাদের জরিপ উদ্দিন জানান, গত কয়েক বছর থেকে যমুনার ভাঙনে শত শত বসতভিটা, কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, বাজার, বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত বছর বর্ষার সময় নদীর ভাঙনে দেওয়ানগঞ্জ খোলাবাড়ি সড়কের মন্ডল বাজার এলাকায় একাংশ নদীগর্ভে চলে যায়। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তড়িঘড়ি করে সিনথেটিক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে। এবছর শুষ্ক মৌসুমে যমুনার ভাঙনে সড়কটির হুদার মোড় এলাকার অন্তত ৪০০ মিটার নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
চর ডাকাতিয়া পাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, নদী ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নদীগর্ভে হারিয়ে গেল। এ ছাড়াও চর ডাকাতিয়া গ্রামে প্রতিনিয়ত বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাই।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, ভাঙন রোধে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এ ছাড়াও ভাঙন রোধে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে যা অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর অর্থ বরাদ্দ পেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

