জামালপুরের ইসলামপুরে চাঁদা না পেয়ে এক পৌর কাউন্সিলরের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের মারধর ও এক নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন নেতাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নাজমা বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামিউল হক ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে অভিযুক্তরা কাউন্সিলরের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি অনুযায়ী টাকা না পেয়ে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় তার ভাতিজার স্ত্রী মনিরা বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে অভিযুক্তরা। এছাড়া নাজমা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ননদ শরিফা বেগমও হামলায় আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে অভিযুক্তরা এলাকায় চাঁদাবাজি ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। পরে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. হাসমত, পৌর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. হাসান, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী নূর ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসলামপুর পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মহসিন জানান, কাউন্সিলর সামিউল হক পেট্রোলের ব্যবসা করেন। সম্প্রতি জালানি তেল সংকটের কারণে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার কাছে পেট্রোল কিনতে যায়। এ সময় পেট্রোল বিক্রি না করার কারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। কাউন্সিলর সামিউল হক যে অভিযোগ করেছেন সেটা মিথ্যা। এর কোন ভিত্তি নেই।
ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. হাসমত জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে কাউন্সিলর সামিউল হকের ঝামেলা বাঁধলে তিনি উপস্থিত হয়ে তা মিমাংসা করার চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন