ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সেতু ভাঙার ৭ বছরেও পুনর্নির্মাণ হয়নি, ভোগান্তি চরমে

মোস্তফা গাজী, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
টাকিমারি খালের ওপর নির্মিত ভেঙে যাওয়া সেতুটি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের টাকিমারি খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যায়। তবে ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন একটি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের ১৫ সহস্রাধিক মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগারচর ইউনিয়নের টাকিমারি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ছিল এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে আলীরপাড়া, বগারচর, টাকিমারি, গোপালপুর ও সারমারাসহ ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকা ব্যবহার করে পারাপার হতে হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গাজী আমানুজ্জামান মর্ডান কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিত হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, দুই পাশে পাকা রাস্তা রয়েছে কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় জীবনহানির ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেতু ভেঙে এমন অবস্থা হয়েছে যে বাঁশের সাঁকো দেওয়াও কঠিন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বগারচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পলাশ মিয়া জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কলেজের শিক্ষক প্রভাষক জুলফিকার মামুন জানান, টাকিমারি খালের ওপর সেতু না থাকায় আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীসহ এই এলাকার হাজারো মানুষ দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছামিউল হক বলেন, ‘এ ব্রিজ নিয়ে এ পর্যন্ত কয়েকবার প্রস্তাব পাঠিয়েছি কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।’