জামালপুরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আড়ালে ভুয়া তান্ত্রিক সেজে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নিচ থেকে প্রায় ৬৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মনির হোসেন (২১), একই এলাকার মোস্তফার ছেলে মুছা মিয়া (২৯) এবং মৃত নবাব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৮)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে পিবিআইয়ের জামালপুর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
পিবিআই জানায়, শেরপুর সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে প্রতারক চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। গত ১৭ মার্চ শেরপুরের এক কাপড় ব্যবসায়ী তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার পর পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় জামালপুর ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকা থেকে মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ির পাশের বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সসহ পাঁচটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করত। তারা ‘কবিরাজ’ বা ‘তান্ত্রিক’ পরিচয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করত।
ভুক্তভোগী কিশোরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়। পরে বিভিন্ন খাতে, যেমন কবিরাজি ফি, পশু ক্রয় ও ধর্মীয় সামগ্রী কেনার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
পরবর্তীতে ওই কিশোরী আরও টাকা পাঠাতে গেলে স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এরপর তার বাবা বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, মামলাটি পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

