ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি খালাস, অন্যদের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জামালপুরের ইসলামপুরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং মামলার প্রধান আসামি সাদিককে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের শিলদহ গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে শিপন (২১), সিদ্দিক মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম (২৭) ও আরমান আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (২২)। বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত সাদিক একই এলাকার মুনতাজ মিয়ার ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যান তার আত্মীয় সাদিক। এরপর ভুক্তভোগীকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন অন্য তিন আসামি শিপন, ইব্রাহীম ও ইউসুফ। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে প্রথমে সাদিক এবং পরে বাকি আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার ১৬ দিন পার হলে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় ৪ জনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও ডিএনএ পরীক্ষার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ জনকে খালাস প্রদান করেন।

বিচার চলাকালে উঠে আসে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর সঙ্গে সাদিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের প্রলোভনে ওই রাতে সাদিক ভুক্তভোগীকে বাড়ির পাশের খেতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিপন, ইব্রাহীম ও ইউসুফ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক দৌড়ে পালিয়ে যান। তখন ওই ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তারা এবং পরবর্তীতে তাকে বাড়িতে পৌছে দেয়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে আইনজীবী জানান, প্রথমে ওই স্কুলছাত্রীর সম্মতিতে সাদিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল এবং ওই অংশের ঘটনাকে আদালত ‘স্বেচ্ছায়’ হিসেবে বিবেচনা করেন এবং প্রধান আসামি সাদিককে মামলা থেকে খালাস প্রদান করেন।