ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এবার বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে হত্যা

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন । ছবি - সংগৃহীত

যশোর শহরে চলন্ত মোটরসাইকেলে প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শংকরপুর ইসহাক সড়কে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর ওই এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। তিনি যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের মামা এনামুল হোসেন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শংকরপুরে অবস্থিত যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন আলমগীর। পথিমধ্যে শংকরপুর ইসহাক সড়কে সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ হোসেন নয়নের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা এক দুর্বৃত্ত পিছন দিক থেকে তার (আলমগীরের) মাথায় গুলি করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যা মিশনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে শুটারসহ দুইজন ছিল।

নিহতের বিয়াই শফিকুল ইসলাম তোতা জানান, আলমগীর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি একজন ভূমি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এলাকায় দানবীর হিসেবে তার সুনাম ছিল। খুন হওয়ার মতো কোনো অন্যায় তিনি করেননি। দুর্বৃত্তরা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা তাদের বোধগম্য নয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য স্বজনরা।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলমগীরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথার বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, শংকরপুর ইসহাক সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেলে আলমগীর হোসেন নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরাও মোটরসাইকেলে ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

এদিকে, আলমগীর হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-সদর আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যশোরে বিএনপির ৬৮ জন নেতা-কর্মী খুনের শিকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক। ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আলমগীরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।