যশোর শহরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের জামাতা পরশসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুজন হলেন, যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলুর ছেলে বাসেদ আলী পরশ (২৯) এবং শংকরপুর ইসহাক সড়কের মতিন দারোগার ছেলে আসাবুল ইসলাম সাগর (৫২)।
রোববার (৪ জানুয়ারি) নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম উল্লিখিত দুই জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এসব তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যারাতে শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের বিভিন্ন ভবনে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তদন্তের একপর্যায়ে নেপথ্যের কারিগর হিসেবে দুই জনকে শনাক্ত করা হয় এবং পরে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি বাসেদ আলী পরশ নিহত আলমগীর হোসেনের জামাতা। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরশের স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না এবং একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদও হয়ে যায়। পরে সামাজিকভাবে আবার সেই বিরোধ মীমাংসা করা হয়। এ ছাড়া নিহতের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও পরশের বিরোধ ছিল। প্রায় এক মাস আগে পরশের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকেই পরশ বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
অপর আসামি আসাবুল ইসলাম সাগর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান। জাহাঙ্গীর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হামলার সময় নিহত আলমগীর হোসেন তাকে বাধা দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাগর আলমগীর হোসেনকে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এমনকি ফেসবুক মেসেঞ্জারেও হুমকিমূলক বার্তা পাঠান। পুলিশ বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছে, সাগর ও পরশের যোগসাজশে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম তার এজাহারে এই দুই জনের নাম উল্লেখ করেছেন। সে কারণেই তাদের আটক করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মূল খুনিরা কারা তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা চলছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, আসামি বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরকে ৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে আটক করা হলেও পুলিশ জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আটক দেখানো হয় পরদিন রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল আহসান হাবীব এবং ডিবি পুলিশের ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।
এদিকে, আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল শুটারদের এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চার জন গুলি চালিয়ে পালিয়ে গেলেও তাদের শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যার ঘটনায় যে দুই জনকে আটক করা হয়েছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে কি না এ নিয়েও অনেকের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শংকরপুর ইসহাক সড়কে সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ আহমেদ নয়নের অফিসের সামনে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনের মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে।



