ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভোটারদের হুমকি দিলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা : জেলা প্রশাসক

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
চৌগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান সাগর। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান সাগর বলেছেন, ভোটারদের হুমকি দিলেই তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে নাম জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি প্রকৃত নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না—সে যেই হোক না কেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় চৌগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মো. আশেক হাসান সাগর।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই আন্দোলনে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছি। সে কারণে আবার যেন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার গণভোটের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি বলেন, যারা মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে চায়, তারা মূলত ফ্যাসিবাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। তবে কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করতে সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ফ্যাসিবাদের দোসরদের তৎপরতা রুখে দিতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আপনাদের এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের মামলার বিষয়ে কোনো ধরনের তদবির করা যাবে না। এসব তদবির গ্রহণ করা হবে না। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে, তাদের স্থান হবে জেলখানায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, এই সভায় আসার আগে তিনি থানায় একটি বৈঠক করে এসেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং খুব শিগগির আরও কঠোর ভূমিকা দেখা যাবে।

তিনি বলেন, গণভোটের প্রচারে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ভোট পাঁচ বছর পরপর আসে, কিন্তু এই গণভোট শত বছরেও আর নাও আসতে পারে। তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অ্যাসেমব্লিতে দুই মিনিট করে গণভোটের প্রচার চালাতে হবে। সরকার সব ধরনের পোস্টার ও লিফলেট তৈরি করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে গণভোটের প্রচারণা ব্যাপক আকারে শুরু হবে। ইতোমধ্যে সব দপ্তরে পোস্টার ও লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য দেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার কামাল আহমেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, যশোর-২ আসনের এবি পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী রিপন মাহমুদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সংসদ সদস্য প্রার্থী ইমরান খান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রিতম, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহসভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম এবং তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম লিটু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) রুহুল আমিন সরকার, প্রেস ক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, জগদীশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সিংহঝুলি ইউপির প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ওবায়েদুল্লাহ, চৌগাছা সদর ইউপির প্রশাসক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম রোমেলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।