বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারী আমলে জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে গুম করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ৫ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। বাকি নেতাদের জেলে ভরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জামায়াত একটি পরীক্ষিত দল। বহু নিপীড়ন সহ্য করে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছে। এই দলের অন্তরে রয়েছে ১৮ কোটি মানুষ। ফলে ‘জুজুর ভয়’ দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ৯টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, জামায়াত টেম্পোস্ট্যান্ড দখল করে চাঁদাবাজি করে না। মামলা বাণিজ্য করে না। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের প্রতিহত করা হবে। সিন্ডিকেট গোটা দেশকে অবশ করে ফেলেছে। সিন্ডিকেটের জিম্মিদশা থেকে মানুষকে মুক্ত করা হবে। ক্ষমতায় এলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। আমরা অন্যায় করব না, কাউকেও অন্যায় করতে দেব না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানো যাবে না। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামী। একটি বন্ধু সংগঠন একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছে, অন্যদিকে গায়ে হাত দিচ্ছে। এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রাজনীতি করুন।
আসন্ন নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এটি কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়, বরং জনগণের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পাল্টে দেওয়ার সুযোগ।
জনসভা শেষে ১১ দলের মনোনীত ৬ প্রার্থী যশোর-১ (শার্শা) আসনের মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) মোসলেম উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ (সদর) আব্দুল কাদের, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) অধ্যাপক গোলাম রসুল, যশোর-৫ (মণিরামপুর) অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক ও যশোর-৬ (কেশবপুর) অধ্যাপক মুক্তার আলীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। এ সময় দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার পাশাপাশি সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে প্রার্থীরা জনসভায় বক্তব্য দেন।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের অঞ্চল টিম সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস, যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু, মাগুরা জেলা আমির এম বি বাকের প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জামায়াতের যশোর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শামসুজ্জামান ও অফিস সেক্রেটারি নূর ই আলি নূর মামুন।
নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে আশপাশের জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা সোমবার রাত থেকেই যশোর ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। মঙ্গলবার সকালে সেখানে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন