ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রোজায় বেনাপোলে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্রেতাদের ক্ষোভ

বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রমজান মাস শুরুর পর থেকে যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ ইফতারে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের দাম। বেড়েছে মাছ, মুরগি ও মাংসের দামও। এ ছাড়া শসা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬০ টাকায়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে দ্রব্যমুল্যের দাম ঠিক রাখতে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সতর্ক করা হয়েছে অনেক দোকান মালিককে। রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্রেতারা আশা করছেন, এই পবিত্র মাসে নিত্যপণ্যের দাম থাকবে সহনীয়।

জানা গেছে, রমজান মাস শুরুর পর থেকে ইফতার ও সেহরির বাজার করতে এসে ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর, চিনি ও বিভিন্ন সবজির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাজার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে নির্ধারিত মূল্য না থাকায় ক্রেতারা সঠিক দাম যাচাই করতে পারছেন না। ফলে একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন দোকানে ভিন্ন দাম আদায় করা হচ্ছে।

শাক-সবজি, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। শসা ৫০ টাকার জায়গায় বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে। লেবু এক হালি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ৩০ টাকার বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪৫ টাকার কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, বয়লার মুরগি ২২০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

দ্রব্যমূল্যের দাম ঠিক রাখতে গত শনিবার বিকেল ও রোববার সকালে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সতর্ক করা হয়েছে অনেক দোকান মালিককে। অভিযানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

বেনাপোল বাজার কমিটির সভাপতি আবু তালেব বলেন, বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আমরা সাথে ছিলাম। বাজারে অনেক অনিয়ম দেখা গেছে। দ্রুত ব্যবসায়ীদের সাথে বসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার চেষ্টা করব।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম বলেন, শার্শা উপজেলায় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে। মুদি, মাছ ও মাংসের দোকান সবখানে সতর্ক করা হয়েছে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক মুদি ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের সাথে বাজার কমিটি পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ছিল। রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।