যশোরের শার্শার ডিহি ইউনিয়নে একটি পুরোনো ও জরাজীর্ণ ব্রিজ বালুবাহী ট্রাকের চাপে ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রঘুনাথপুর-পাকশিয়া সড়কের রঘুনাথপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আশির দশকে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় রঘুনাথপুর, পাকশিয়া, টেংরালী, ভেউড়দাড়ি, পন্ডিতপুর, খলিশাখালী ও সাড়াতলাসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিজটি প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বুধবার বিকেলে বালুবোঝাই একটি ট্রাক ব্রিজের ওপর উঠলে সেটি মাঝখান থেকে ধসে পড়ে।
তবে সৌভাগ্যবশত ট্রাকটির সামনের অংশ ব্রিজ অতিক্রম করে সড়কের ওপর উঠে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এর ফলে এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রঘুনাথপুর-পাকশিয়া সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন পেশাজীবী মানুষ, চাকরিজীবী, কৃষক-শ্রমিক, দিনমজুর, স্কুল-কলেজপড়ুুয়া শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য পথচারীর চলাচলে পথটি ব্যস্ত থাকে। কিন্তু ব্রিজটি ধসে পড়ায় বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল জব্বার বলেন, এই ব্রিজটি অনেক দিন ধরেই নড়বড়ে ছিল। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। বিশেষ করে জরুরি কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার মতো কোনো রাস্তা আর অবশিষ্ট নেই। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
সামনে বোরো মৌসুম হওয়ায় কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী তার উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, আর কয়েকদিন পরেই আমাদের ঘাম ঝরানো সোনালি বোরো ধান ঘরে উঠাতে হবে। এই রাস্তা দিয়ে ধান উঠাতাম আমরা। ব্রিজটি এই সময়ে ভেঙে যাওয়ায় ক্ষেতের ফসল ঘরে নেওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত বিকল্প বা নতুন ব্রিজ না হলে কৃষকের লোকসানের শেষ থাকবে না।
শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়ে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলে, আমাদের স্কুলে যাওয়ার প্রধান পথ এটি। এখন মাইলের পর মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল্লাহ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ব্রিজটির অবস্থা পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং কৃষি পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে যেন অতি দ্রুত এখানে একটি আধুনিক ও মজবুত ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

-20260416141812.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন