ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে পানিতে তলিয়েছে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য

বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০২:২৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

একদিনের টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য হাঁটু পানিতে ভাসছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে শেড, ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল পানিতে তলিয়ে যায়। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত রাত থেকেই এ অঞ্চলে বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছে। একটানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩ নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি শেডে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথাই আমলে নেয়নি। এর ফলে প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২-১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আলহাজ মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া নির্মাণ করায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজি রতন বলেন, বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি শেডে মালামাল পানিতে ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।