ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে তার জন্মস্থান ঝালকাঠির নলছিটিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে নলছিটি পৌর শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হয়ে হাইস্কুল সড়কে এসে জড়ো হন। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নলছিটি পৌর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন শহীদ সেলিম চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া বিকেল ৩টায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে সড়ক অবরোধ করে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান হেলাল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. সাইদুল কবির রানা, হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা হানজালা নোমানীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও মসজিদের ইমামগণ।
বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় ভারত বন্ধুর পরিবর্তে শত্রুতামূলক আচরণ করছে। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় ভারতের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
এ সময় বক্তারা ও এলাকাবাসী দাবি জানান, হাদির জন্মস্থান নলছিটিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হোক, যাতে সহপাঠী ও এলাকাবাসী তাকে শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
সমাবেশ শেষে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাসপাতাল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জাকির হোসাইন।
এদিকে, দুপুরে নিহত হাদির ছোট বোন মাসুমা সুলতানা ও ভগ্নিপতি মাওলানা আমির হোসেন দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে আওয়ামী লীগের লোকজন হত্যা করেছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছিল। এই দাবির কারণেই ভারতের দালালদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা এখন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। দেশের জনগণের প্রতি অনুরোধ, কোনোভাবেই যেন নির্বাচন বানচাল করতে না পারে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? তারা কীভাবে মুক্ত বাতাসে ঘুরছে?’—এ প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের উদাসীনতা পরিহার করে স্বৈরাচারী খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ছোট ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেন বলেন, ‘হাদি এখন আর আমাদের পরিবারের একক সম্পদ নয়, তিনি পুরো বাংলাদেশের হাদি। তার বাবার কবরের পাশে শায়িত করার ওসিয়ত থাকলেও বিষয়টি এখন শুধু পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। সরকার ও পরিবারের আলোচনার মাধ্যমে যেখানে সিদ্ধান্ত হবে সেখানেই তাকে সমাহিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার অবদান জানতে পারে।’ যেহেতু তিনি অধিকাংশ সময় শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সে বিবেচনায় সরকার যেন ওই স্থানের নাম তার নামে নামকরণ করে, এই দাবিও জানান তিনি।
তবে ওসমান হাদির ওসিয়ত ছিল, তার মৃত্যুর পর যেন তাকে পিতার কবরের পাশে শায়িত করা হয়। সে অনুযায়ী নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের হাড়িখালি মুন্সিবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে বিকেল ৩টায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, হাদির পৈতৃক বাড়িতে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



