আলোচিত শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার ২০২৬ ব্যাচের দাখিল পরীক্ষার্থীরা। হাদি এই মাদ্রাসার একজন সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ঝালকাঠি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সেখানে সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন গর্বিত সাবেক শিক্ষার্থী। ওসমান হাদি বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। তিনি একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের তাবেদারি করতে দেওয়া হবে না।’ পাশাপাশি তার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে ভারতে আগেই আটক করা হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় রহস্যজনক ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন দাখিল পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সায়েম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম এবং সমাজকর্মী মেহেদী হাসান খালিদ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শরীফ ওসমান বিন হাদি। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্টের কাছে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রাবেয়া ইসলামকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর পর ঢাকায় কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।


