ঝিনাইদহে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটিখেকোরা। জেলার ছয়টি উপজেলায় একই চিত্র। দিনের আলোর চেয়ে রাতের অন্ধকারেই বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দণ্ড দেওয়া হচ্ছে। দণ্ডের পর যেন আরও বেশি লাগামহীন হয়ে ওঠে এরা।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল, নদী, সরকারি খাসজমি, এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি ও পুকুর থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। আর এ মাটি পরিবহনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ ট্রলিযুক্ত ট্রাক্টর। যেগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ যাচ্ছে অনেকের, অনেকেই হচ্ছেন পঙ্গু। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত।
সরেজমিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এক্সক্যাভেটর দিয়ে পুকুর সংস্কারের নামে চলছে রমরমা মাটির ব্যবসা। সারারাত ধরে ট্রলিযুক্ত ট্রাক্টরের প্রচণ্ড শব্দে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। মাটি পরিবহনের ফলে নষ্ট হচ্ছে সড়ক।
শৈলকুপা উপজেলার দিঘলগ্রাম, মীনগ্রাম, সদর উপজেলার মহামায়া, মামুন শিয়া, দিঘীরপাড়, নারকেলবাড়িয়া, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর, শাখারীদহ, কালীগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরবা, কাশিপুর জেলার প্রতিটি এলাকায় চলছে এ মহাকর্মযজ্ঞ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাটি ব্যবসায়ী জানান, বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে করছেন মাটির ব্যবসা। রাতের বেলায় দলবেঁধে আসে নামসর্বস্ব কিছু সাংবাদিক। টাকা দিলে ভালো, না দিলে হতে হয় হয়রানি। পুলিশ ও কিছু নামধারী সাংবাদিক বেশি বিরক্ত করে। তাদের প্রতিদিন টাকা দেওয়া লাগে।
উজ্জ্বল হোসেন নামে এক মাটি ব্যবসায়ী জানান, অনেক দিন ধরেই মাটির ব্যবসা করছি। দিনের বেলায় মাটি কাটলে হয়রানি হতে হয়। নতুন নতুন ব্যবসায়ীদের দাপটে আমরা কোণঠাসা। তারা স্থানীয় নেতা, পুলিশ ও কিছু সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তথ্য পেলে সাথে সাথেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন