দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে চালু করতে যাচ্ছে কৃষি কার্ড। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও কৃষিসেবা সহজ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের ৯টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা।
প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের ৬টি গ্রামে কৃষি কার্ডের জন্য কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গ্রামগুলো হলো- পাঁচপাখিয়া, কৃপালপুর, যুগনী, বাগনী, চরবাগনী ও পদ্মনগর। এসব গ্রামের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। এর ফলে সার, বীজ, কৃষি প্রণোদনা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, চলতি মাসের মধ্যেই কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে কৃষি কার্ড প্রস্তুত করা হবে। তিনি আরও জানান, পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে শৈলকুপা উপজেলায় প্রায় ১৮৪০ জন কৃষক এই কৃষি কার্ড পাবেন। পরবর্তীতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কৃষি কার্ড চালু হলে প্রকৃত কৃষকদের সঠিক তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি হবে এবং সরকারি সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে। এতে করে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের আশা, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি কৃষি সহায়তা সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষকদের নানা সমস্যার সমাধানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

