উত্তরের হিমেল হাওয়া শুরু হতেই কয়েক দিন ধরে সারাদেশের মতো জয়পুরহাট জেলাজুড়ে শীত জেঁকে বসেছে। টানা কয়েক দিনের প্রচণ্ড ঠান্ডায় জয়পুরহাটের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর ভর্তি সংখ্যা বাড়ছে।
আবহাওয়া ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনে ও রাতে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে অবস্থান করছে। অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডা বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে জয়পুরহাটের প্রকৃতি। অনেক দিন সূর্যের দেখা মিলছে না। শিশু ও বৃদ্ধরা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত শীতে বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা জানিয়েছেন, শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষার জন্য বোরো ধানের চারা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও অনেক চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকালে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের সুপার ও চিকিৎসকরা জানান, ১৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসাধীন। নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়া, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় বাড়ির উঠোনে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়তে থাকায় কৃষিকাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।
কাজের অভাবে অনেক গরিব-দুঃখী মানুষ বেকার হয়ে পড়ছেন। জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে গত কয়েক দিনে সর্দি-কাশির পাশাপাশি শীতজনিত রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তারা দ্রুত বেশি পরিমাণ শীতবস্ত্র জেলায় পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন