ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জেল পুলিশের বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. ফরিদ হোসেন (৬৭) নামের এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে মো. শাহিন হোসেন নামের এক জেল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ফরিদ মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের উত্তর গণেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বালিঘাটা ইউনিয়নের উত্তর গণেশপুর গ্রামের মৃত ফকির উদ্দিনের ছেলে ফরিদ হোসেন বাড়ির পাশে কলাগাছ রোপণ করেন। ওই কলাগাছের পাতা পাশের বাড়ির দেওয়ালে লাগা নিয়ে উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের ধাওয়াইপুর গ্রামের জসমত মণ্ডলের ছেলে শাহিন হোসেনের (বর্তমানে জেল পুলিশ হিসেবে কর্মরত) সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে শাহিন ও তার ছেলে মোরছালিন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ফরিদকে কোপাতে থাকেন। এ সময় ফরিদের আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মাসুদা বেগম, আব্দুস সামাদসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, শাহিন জয়পুরহাট জেলা কারাগারে কর্মরত। পুলিশের চাকরি করার কারণে তিনি এলাকায় প্রভাব খাটান এবং মানুষকে অবজ্ঞা করেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

স্থানীয় আটাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আ স ম সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, লোকমুখে মারামারির ঘটনাটি শুনেছি। তবে কোনো পক্ষই আমার কাছে আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে শাহিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ডিউটি শেষে শাহিন বাড়িতে আসেন। সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী ফরিদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফরিদ তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তার স্বামী ও ছেলে তাকে মারধর করেন।

পাঁচবিবি থানার ওসি হাফিজ মো. রায়হান বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী থানায় এলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়পুরহাট জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার তোফায়েল আহম্মেদ খান বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার দিন শাহিনের কর্মস্থলে থাকার কথা ছিল এবং তার কোনো ছুটি ছিল না বলে তিনি জানান।