ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চলে গেলেন আনসার ভিডিপি ব্যাংকের সেই জয়নাব খাতুন 

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

আনসার ভিডিপি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার জয়নব খাতুন আর নেই। আর কখনো এমডির কাছে পদোন্নতির দাবি জানাবেন না তিনি। সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে তাকে এমডির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল।

মৃত্যুর আগে তিনি ব্যাংকটির মাগুরা শাখায় প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অথচ তার একমাত্র ১১ বছরের সন্তানটি মায়ের কাছ থেকে দূরে খুলনায় অবস্থান করছিল। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) গভীর রাতে খুলনা শহরের নিজ বাড়িতে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জয়নবের পিতা আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, মানসিক যন্ত্রণার কারণে স্ট্রোক করে তার মেয়ে জয়নবের মৃত্যু হয়েছে। জানাজা শেষে জয়নবকে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তার বোনের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে জয়নব ১১ বছরের একটি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

জয়নবের সহকর্মীরা জানান, আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হয়রানিমূলক বদলি ও পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শত শত বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে প্রিন্সিপাল অফিসার জয়নবও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন।

সহকর্মীরা আরও জানান, জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধনের পর ব্যাংকের এমডির নির্দেশে প্রতিবাদকারী অনেক কর্মকর্তাকে দূর-দূরান্তে হয়রানিমূলক বদলি করা হয়। মৃত্যুবরণকারী জয়নবও তাদের মধ্যে একজন ছিলেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিন্সিপাল অফিসার জয়নবকে গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।

মাগুরায় বদলি হলেও জয়নবের একমাত্র ১১ বছরের কন্যা সন্তানটি নানির (জয়নবের মা) কাছে খুলনাতেই বসবাস করত। মেয়েকে দূরে রেখে হয়রানিমূলক বদলির কষ্টে জয়নব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অযোগ্যদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে আনসার ও ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পদোন্নতি বঞ্চিত কয়েকশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী মানববন্ধন করেন। জয়নবও সেখানে প্রতিবাদী পোস্টার হাতে দাঁড়িয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন মীর মোফাজ্জল হোসেন। তবে যোগদানের পর থেকেই তিনি বদলি বাণিজ্য ও অযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া শুরু করেন।

এরই প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট বাংলাদেশ আনসার বিডিবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে পদোন্নতিতে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে প্রেসক্লাবের সামনে প্রায় ৪০০ জন পদবঞ্চিত কর্মকর্তা ও কর্মচারী মানববন্ধন করেন। এরপর মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের তালিকা তৈরি করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ব্যাংকটির পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পায় আর্থিক বিভাগ। এরপর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় আর্থিক বিভাগ। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর পদবঞ্চিত যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদানের নির্দেশ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।