ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দেবরের বিরুদ্ধে ভাবিকে হত্যার অভিযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ০১:৩৬ পিএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় বিকৃত যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে গাছে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবর মহিদুল গাজীর বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় এলাকাবাসী দেবর মহিদুল গাজীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দিলে কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার কপিলমুনি ইউপির কাশিমনগর গাজী বাড়িতে।

এলাকাবাসী জানান, মৃত এনামুল গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী রশিদা বেগম (৩৫) দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে আপন ছোট দেবর মহিদুল গাজী (৪৩) তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু রশিদা বেগম বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রাজি ছিলেন না।

এছাড়াও মহিদুল মাদকদ্রব্য বেচাকেনার পাশাপাশি সেবন করতেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের পিতা তালা উপজেলার মাছিয়াড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী সরদার জানান, আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

নিহতের মেয়ে জানান, জমির নামজারি করার জন্য মা ও কাকা রাতে কথা বলছিল। এরপর মা ঘরে প্রবেশ করে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোর ৪টার দিকে বাথরুমে যাওয়ার জন্য দরজা খুললে মহিদুল মাকে একা পেয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে জোর করে।

এসময় মা বলে, তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়াবেন না। কাকা মহিদুল আমাদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকিয়ে দেয়। মাকে মারধরের শব্দ শুনে আমি চিৎকার করলে কেউ এগিয়ে আসেনি। এরপর আমি ঘুমিয়ে পড়ি।

সকালে আমার দাদি ঘরের দরজা খুলে দিলে রান্নার জন্য কাঠ আনতে গিয়ে দেখি, আমার মা লিচু গাছে ঝুলছে। তাছমিরা বলেন, আমার কাকা আমার মাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টের সময় উপস্থিত এক নারী জানান, নিহতের গোপনাঙ্গ থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং রক্তের দাগ ছিল।

পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, মহিদুল গাজীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।