কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম উপজেলায় জলমহাল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের নির্দেশে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের লাউড়া-নাজিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে তার লোকজন বিল মাকসা নদীর মাছ লুট করে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় মাছ উদ্ধারের জন্য উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ কয়েকজন মাছ বহনকারী ট্রলারটি আটক করেন।
ট্রলার আটকের খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ মুঠোফোনে বিষয়টি বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের জানান।
পরে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মুর্শেদী কামাল, সাবেক ইউপি সদস্য রাশেদ মিয়া ও আক্কাস আলী আকাশসহ ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর আহতদের কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
গুরুতর আহত তিতুমীর হোসেন সোহেল (৩৫) উপজেলার মধ্য অষ্টগ্রাম কলাপাড়া এলাকার হুমায়ুন কবির দানা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় সদর ইউনিয়নের তাকবীর (২৮), মীর রাফি (২৩) ও রিমন (৩৫) নামে আরও তিনজন আহত হন।
আহতদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের দাবি, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও তার সহযোগী আক্কাস মিয়াসহ তাদের লোকজন বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন জলমহাল ও বালুমহাল বেআইনিভাবে দখলসহ মামলা বাণিজ্যে জড়িয়ে আছে। এসবের প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আহত ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, বিল মাকসা জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে আমাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ওসি সোহেব খান জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে অষ্টগ্রাম সদর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


