ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌচাষিরা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফসলের মাঠ ছেয়ে আছে সরিষার হলুদ ফুলের আভায়। সরিষার এই আবাদকে কেন্দ্র করে ফুল থেকে মধু সংগ্রহে মৌমাছির বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন মধু সংগ্রহকারীরা।

উপজেলার শিমুলকান্দি ও আগানগর ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির পাশে স্থাপন করা হয়েছে ৩৫০টি মৌমাছির বাক্স। মৌমাছিরা সরিষার জমিতে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে বসে মধু আহরণ করে বাক্সের ট্রেতে জমা করছে। আর মধু সংগ্রহকারীরা দুই-একদিন পর পর ট্রেগুলো একটি মেশিনে দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই মধু স্থানীয়দের কাছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পরে সংগ্রহিত মধু এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানিতে সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ভৈরবের আগানগর ও শিমুলকান্দিসহ ৭টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। চলতি বছর সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫০ হেক্টর, কিন্তু তার বিপরীতে ২ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গ্রাহকদের কাছে সরিষা তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষার দাম বাড়ছে। এ ছাড়া সরিষার খৈল মাছের খাবার ও গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে ভৈরবে দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে। সরিষার আবাদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ৪৭০টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করায় সরিষার ফলন প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো তিন মাস মৌচাষিরা মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকেন।

কৃষক মো. আব্দুল হাসিম, মো. সিরাজ মিয়া ও ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমরা জমিতে কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক প্রয়োগ করিনি। মৌমাছির বাক্স স্থাপনের ফলে জমিতে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই তারা যেন আগামীতে আসে, এটাই আমাদের আশা।’

মধু ক্রেতা সালাউদ্দিন, শাহ আলম ও সেলিম মিয়া বলেন, ‘মধুতে কোনো ভেজাল না থাকায় আমরা অনেক দূর থেকে মধু নিতে এসেছি। প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে মধু বিক্রি করছেন চাষিরা।’

মধু আহরণকারী আরিফুল ইসলাম, আব্দুল আলিম ও সূরত আলী বলেন, ‘যেখানে ফুল, সেখানেই আমরা ছুটে যাই মধু আহরণে। আহরিত মধু স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে দেশের নামিদামি কোম্পানিগুলোতে সরবরাহ করা হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় চাহিদামতো মধু আহরণ করতে পারিনি, ফলে লাভবান না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মধু রপ্তানি করা সম্ভব হবে।’

ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, ‘সরিষা জমির পাশে মৌমাছির বক্স স্থাপনের ফলে মৌমাছি এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে বেড়ায়, এতে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায় এবং সরিষার ফলন প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ে। এ বছর বৃষ্টি না থাকায় সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি আগামীতে সরিষার আবাদ আরও বাড়বে।’