ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিসিকে নির্মাণাধীন ফটক ভেঙে পড়ে রড মিস্ত্রি নিহত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জ শিল্পনগরী বিসিকে নির্মাণাধীন প্রধান ফটক ভেঙে চাপা পড়ে রাসেল (২৭) নামে এক রড মিস্ত্রি নিহত হয়েছের। এ ঘটনায় আরও ৪ নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মারিয়া এলাকার শিল্পনগরী বিসিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল মারিয়া ইউনিয়নের স্বল্পমারিয়া এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। আহত ৪ নির্মাণ শ্রমিককে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শিল্পনগরী বিসিকের প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ চলছিল। সন্ধ্যার দিকে ফটকের ওপরের অংশে ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। ঢালাই শেষ হওয়ার পরপরই সেটি ধসে পড়ে ৫ নির্মাণ শ্রমিকের ওপর। প্রথমে এলাকাবাসী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চারজনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে আসে তারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাসেল নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

নির্মাণশ্রমিক খোকন মিয়া জানান, বিসিকের প্রধান ফটকের ওপরের অংশে ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। হঠাৎ ভেঙে পড়ে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন এসে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার মোহাম্মদ আবু খালিদ জানান, আমরা সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে অ্যাম্বুলেন্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। এসে দেখি যে স্থানীয় লোকজন অলরেডি উদ্ধার কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং আমাদের ভলান্টিয়ার ছিল এখানে। স্থানীয় লোকজন এবং আমাদের ফায়ার সার্ভিসের ভলান্টিয়াররা উদ্ধার করে কয়েকজনকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। অনেকে ধারণা করছিল ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেউ আটকা আছে। নিখোঁজ কেউ রয়েছে কিনা চেক করার জন্য ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আর কাউকে পাইনি। পরে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করি।

কিশোরগঞ্জ শিল্পনগরী বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান আল ফারুক বলেন, প্রধান ফটকের ওপরের অংশের ঢালাই দেওয়ার কাজ হওয়ার কথা ছিল আজকে। আমাদের অফিসের লোকজন ঝড় বৃষ্টির জন্য মানা করেছিল ঢালাই দেওয়ার জন্য। কিন্তু না করেই ঢালাই দেওয়ার কাজ শুরু করে পরে হয়তো ভেঙে পড়ছে। বিষয়টি আমরা ঠিকাদারকে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।