ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট রোজার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সারাদেশের মতো উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামেও সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য মনোনীত করার প্রস্তুতি চলছে। এ খবরে কুড়িগ্রামের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি আসনের একটিতেও বিএনপি জয়লাভ করতে না পারায় দলীয় নেতাকর্মীরা সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রতিনিধি চান। স্থানীয়ভাবে যেসব নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবুর স্ত্রী নাজমুন নাহার বিউটি, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তাসভীর উল ইসলামের স্ত্রী কার্ডিওলজিস্ট ডা. রেয়ান আনিস, জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক রেশমা সুলতানা, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ সোহেল হোসাইন কায়কোবাদের স্ত্রী মোসলেমা বেগম মিলি কায়কোবাদ এবং জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীমা রহমান আপন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে কুড়িগ্রামের একজন নারী প্রতিনিধি থাকা শুধু প্রতীকী বিষয় নয়; বরং নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অবকাঠামোগত ঘাটতির মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সীমান্তবর্তী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই জেলার জন্য কার্যকর কণ্ঠস্বর প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, জনগ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার আগে জেলা ও তৃণমূলের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কুড়িগ্রামের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা চললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।
রৌমারী উপজেলা কৃষকদলের সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, অবহেলিত এ অঞ্চলের পক্ষে সংসদে কথা বলার জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের একজন এমপি প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সৎ, যোগ্য ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ প্রার্থী নির্বাচন করবেন।
চিলমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখি বলেন, কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত। সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রতিনিধি মনোনীত হলে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় নেত্রীদের মনোনয়ন দেওয়া হলে কুড়িগ্রামের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন