কুড়িগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত থেকে বুধবার (১৩ মে) দুপুর পর্যন্ত টানা বর্ষণে জেলার বিস্তীর্ণ বোরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক জমিতে ধানগাছের গলা পর্যন্ত পানি জমেছে। একই সঙ্গে পাট ও সবজিখেত নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য দিয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, স্বল্প বিরতির পর আবারও ভারী বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। পাকা ও অর্ধপাকা ধান কাটতে না পারা, মাড়াই ও খড় শুকাতে না পারায় কৃষকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের কৃষক মোনাল বলেন, ধান আর খড় নিয়ে বিপদে আছি। যেগুলো ধান কেটেছি, সেগুলোর পোয়াল শুকাতে পারছি না। এখনো জমিতে পাকা ধান পড়ে আছে। এমনভাবে ঝড়-বৃষ্টি হলে কাটব কীভাবে! আবাদে খরচ করা টাকা এবার পানিতে শেষ!
জেলা সদরের চরুয়াপাড়া গ্রামের কৃষাণি রেশমা বেগম বলেন, “কাল ধান কেটে বাড়ি এনেছি। জমিতে থাকলে ভালো ছিল। এখন ধান নিয়েও বিপদ, পোয়াল নিয়েও বিপদ। এবার কপালে কী আছে, আল্লাহই জানেন!”
অন্যদিকে, কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে কুড়িগ্রামে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির ধান কাটা হলেও এখনো ৫০ শতাংশ জমিতে পাকা ধান রয়ে গেছে।
গত তিন দিনে ধান কাটার গতি ভালো থাকলেও নতুন করে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সেই কার্যক্রম থমকে গেছে। অনেক জমিতে ধানের শীষের কাছাকাছি পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। এ ছাড়া ভেজা খড় পচে গেলে প্রাণিখাদ্যের সংকটও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। অনেক জমিতে ধানগাছের গলা পর্যন্ত পানি জমে আছে। পানি নেমে গেলে কৃষকরা ধান কাটতে পারবেন। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
তিনি আরও জানান, নিমজ্জিত কিছু পাট ও সবজিখেত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি থামার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টাও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

