কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আলোচিত বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে (৪০) হত্যা করতে ৫০ হাজার টাকা চুক্তি করেছিল হত্যাকারীরা। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) রাতে ভেড়ামারা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে জর্ডানপ্রবাসী বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে হত্যা করা হয়। পরে তার বিবস্ত্র ও বিকৃত মরদেহ উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিল এলাকার ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন (৩৪), জাহাবুল ইসলাম (২৪) ও শাওন (২০)। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে মহিন, জাহাবুল ও শাওন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার আগের দিন সুজন কানা তার বাড়িতে অন্য আসামিদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে হত্যার পরিকল্পনা হয় এবং অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর ভুক্তভোগীকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে ডেকে নিয়ে রামচন্দ্রপুর বিল এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিল। এরপর তাকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়।
পরে মরদেহ বিকৃত করা হয় এবং ঘটনার ছবি তুলে তা দেখিয়ে বাকি টাকা নেওয়া হয় বলেও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা এখনো পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। তবে হত্যার মূল কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সন্দেহভাজন সুজন কানা প্রথমে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলেও পরে সরে দাঁড়ান।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে আগেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং অপর একজন দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

