× UCB Sticker Card
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

২০ বছরেরও পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি, উঠানে হাঁটু পানি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে শোবার ঘর, রান্নাঘর সবখানেই উঠে গেছে পানি। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কুষ্টিয়ার  কুমারখালীর বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের ভাষ্য, সময়মতো পৌরকর পরিশোধ করা হয়। তবে গেল ২০ বছরেরও পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা করেননি পৌর কর্তৃপক্ষ। বছরের অন্তত ৬ মাস হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। পানিবাহিত রোগে ভুগছেন অনেকেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানান তারা।

জানা যায়, উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে চলে গেছে নির্মাণাধীন পাকা ড্রেন। ড্রেনে পানি জমে থাকলেও প্রবাহ নেই। নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দুরে অবস্থিত দুর্গাপুর গ্রামের একাংশ। সেখানে পাকা ও আধাপাকা অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি রয়েছে। বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য রয়েছে একটি আরসিসি ঢালাইয়ের পাকা সড়ক। তবে সেই সড়কটি ডুবে গেছে পানিতে।

এছাড়াও সেখানকার শোবার ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, ওয়াশরুম, গোয়ালঘর সবখানেই থৈথৈ পানি। হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে নানাবয়সি মানুষ। কেউ ঘরের পানি সেচে বাইরে ফেলছেন। ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার স্ত্রী শিরিনা খাতুন বলেন, ‘ঘরে পানি, বাথরুমে পানি, টিউবওয়েলে পানি। সকাল থেকে রান্না খাওয়া সব বন্ধ রয়েছে। পোলাপান স্কুলে যেতে পারতেছেনা। পুরুষ মানুষ কাজে যেতে পারছেনা। ১৫- ২০ বছর ধরে এভাবে পানির সাথে বসবাস। গৃহিণী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘ছাগল ভেড়ী না খেয়ে রয়ছে। আমরা সকাল পর্যন্ত রান্না করতে পারিনি। খাতি পারিনি। 

টিউবওয়েল ডুবে গেছে। বাথরুম ডুবে গেছে। কয়ডা যে খাবো, আবার সে ভয়ও পাই, যে বাথরুমে যাব ক্যামনে সবকিছুর অসুবিধা। পরীক্ষা চলতেছে, ছোয়ালপাল স্কুলে যাতি পারতেছেনা।’ বয়োজ্যেষ্ঠ মো. শাজাহান আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘পানিতি ডুবে রয়ছি। সবঘরে পানি। তাঁর ভাষ্য, নিয়মিত কর পরিশোধ করা হলেও পানির কোনো ব্যবস্থা করেনা পৌরসভা। তাঁর স্ত্রী নুরজাহান খাতুন বলেন, বছরে ৬ মাস পানি জমে থাকে। সকাল থেকে একনাগারে বৃষ্টিতে রান্নাঘর গোয়াল টোয়াল সব ভাসে গেছে। রান্নায় করতে পারিনি। কেউ তো আসে দেখেও না ফুকচি দে। 

গড়াই নদীর কূলঘেঁষে ১৮৬৯ গঠিত কুমারখালী পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু এখানে ছিলোনা পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক। তবে ২০২৩- ২৪ অর্থবছর থেকে ধাপেধাপে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ড্রেন ও পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু একবছর মেয়াদী এই নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি দুইবছরেও। এদিকে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ। ফলে পৌরসভার ১, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। 

কুমারখালী পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, জনবল সংকট, স্থান সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানাবিদ কারণে ড্রেন নির্মাণকাজে কিছুটা ধীরগতি হয়েছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার প্রত্যাশা তাঁর। তার ভাষ্য, বর্তমান জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। দ্রুতই পানি সরে যাবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!