ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তালা ভেঙে স্বর্ণের দোকানে চুরি, নৈশপ্রহরীকে তুলে নিয়ে হত্যা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্বর্ণের দোকানের শাটারের তালা ভেঙে সিন্দুক চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশপ্রহরী ফরিদের (৪৪) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয়।

শুক্রবার দিবাগত রাতে রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজারে নিউ আপন শিল্পালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সকালে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে হাত-পা-মুখ কসটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ফরিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ফরিদ রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর এলাকার মিজি বাড়ির মো. শাহাজাহানের ছেলে। তিনি রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রামগঞ্জ পুলিশ বক্স থেকে পাটবাজার পর্যন্ত ছিল তার দায়িত্বের এলাকা।

বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা জানান, এটি চুরি নয়, ডাকাতির ঘটনা। সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে তারা ডাকাতি করতে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় ফরিদকে ধরে নিয়ে যায় তারা। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ হাজীগঞ্জ সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রূপন শীল বলেন, ‘আমি ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে কোনোরকমে ডালভাত খাই। আমার অঢেল টাকা নেই। ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। আমার দোকানের শাটারের তালা ভেঙে চুরি করা হয়েছে। চোরের দল আমার স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ সিন্দুকটি নিয়ে গেছে। আমাকে শেষ করে দিয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইমারত হোসেন বলেন, সকালে অজ্ঞাত হিসেবে ফরিদের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার হাত-পা ও মুখ কসটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তার বাড়ি রামগঞ্জে। নিহতের পরিবারকে হাজীগঞ্জ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চুরির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কত টাকার মালামাল চুরি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৈশপ্রহরী ফরিদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে শুনেছি। সেখানে ময়নাতদন্ত হবে এবং মামলা হবে। এছাড়া আমরা বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।