ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দাফনের ১৪ মাস পর কৃষকদল নেতার মরদেহ উত্তোলন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে দাফনের প্রায় ১৪ মাস পর কবর থেকে কৃষকদল নেতা শাহাদাত হোসেন পরাশের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে রোববার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তেরবেকি এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন এবং সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আরমান হোসেন। পরাশ জেলা কৃষকদলের সাবেক সহসভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ শেখ সুমন জানান, পরাশ ২০২৫ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জের মোস্তানগর এলাকায় মারা যান। ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন তার মরদেহ লক্ষ্মীপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে হত্যার অভিযোগ এনে তার স্ত্রী শেফালি বেগম শেপু একই বছরের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত ঘটনাটি আমলে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। উত্তোলিত মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় দাফন করা হবে।

বাদী শেফালি বেগম শেপু বলেন, তার স্বামী পরাশ ওমানপ্রবাসী ছিলেন এবং ঘটনার প্রায় আট মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। অভিযুক্ত মোহনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পরাশ একটি মাটি খননযন্ত্র কিনে দেশে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে মোহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের দিকে রওনা দেন। পরে জানা যায়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আমার স্বজনরা জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছ থেকে মরদেহ নিয়ে আসেন। তখন পেটে ছুরির আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশ মামলা করার পরামর্শ দেয়। জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে তারা আদালতে যেতে বলেন। সেই অনুযায়ী আদালতে মামলা করা হয়। ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেই পরাশকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এ ঘটনায় মোহনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।