× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশ জেলেরা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দীর্ঘ দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। কিন্তু নদীতে জাল ফেলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। অনেক জেলে ধার-দেনা করে নদীতে নামলেও মাছ না পেয়ে খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন।

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার।

গত ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে নতুন আশায় বুক বেঁধে নদীতে নামেন জেলেরা। তবে কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় এখন হতাশা বাড়ছে উপকূলজুড়ে।

জেলেরা জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সহজে জ্বালানি না পাওয়ায় অনেকেই ট্রলার নিয়ে নদীতে যেতে পারছেন না। আবার যারা যাচ্ছেন, তাদের অনেকেই কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকার জেলে আবদুল মালেক বলেন, “নিষেধাজ্ঞার দুই মাস কোনো কাজ ছিল না। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন আশা নিয়ে নদীতে নামছি, কিন্তু মাছ না পাওয়ায় তেলের টাকাও উঠছে না। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

জেলে শাহীন মাঝি বলেন, ‘আগে রাতে নদীতে গেলে ভালো ইলিশ পাওয়া যেত। এখন সারারাত জাল ফেলেও দুই-তিনটি মাছ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সামনে কী হবে বুঝতে পারছি না।’

ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়তদাররাও পড়েছেন সংকটে। মাছ না থাকায় আড়তগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায় ধস নেমেছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর, চর আলেকজান্ডার, মতিরহাট, হাজিরহাট, চরফলকনসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় প্রায় ৩০টি মাছঘাটে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। অনেক আড়তে জেলেদের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। নদী থেকে ফিরলেও বেশিরভাগ ট্রলারে মাছের পরিমাণ খুবই কম।

মতিরহাট মাছঘাটের আড়তদার মো. রফিক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে সবাই আশা করেছিল এবার প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে। কিন্তু মাছ না থাকায় ঘাটগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা।’

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৯৫৫ জন কার্ডধারী জেলে। এবারের নিষেধাজ্ঞাকালে ২৯ হাজার ৬০ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে নদীতে প্রায় ৩০০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ছাড়া ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৬টি মামলা দায়ের এবং ২০ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘নদীর নাব্য সংকট, ডুবোচর এবং মোহনায় পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণেই ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ডিম ছাড়ার পর অনেক ইলিশ গভীর সমুদ্রে চলে যাওয়ায় এখন নদীতে কম ধরা পড়ছে। তবে মৌসুমের শুরুতে কম ধরা পড়লেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!