× UCB Sticker Card
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার এক গৃহবধূর মৃত্যুর পর রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী হাফিজ মোল্লার বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, স্বামীর দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণেই সামিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ময়নাতদন্ত শেষে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত সামিয়া আক্তার (২৭) রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লাও একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর তার স্বামী হাফিজ মোল্লা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ মর্গে সংরক্ষণ করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগে ছিল। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, হাফিজ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই মো. হাসান বলেন, গত ১৬ জুন আমার বোনকে হাফিজ মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সে মারা যায়। মৃত্যুর খবর পেয়ে হাফিজ মরদেহ মর্গে রেখে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানাকে জানায়। পুলিশ এসে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমার বোনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।

নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়ের ওপর বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন চালানো হতো। এ ঘটনায় ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভিকটিমের বাবা আগে থেকেই একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া শেরেবাংলা নগর থানা থেকে একজন নারীর বিষক্রিয়াজনিত মৃত্যুর বিষয়ে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের তথ্যসংবলিত একটি চিঠি পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও সুরতহাল প্রতিবেদন চেয়ে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!