ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ঠান্ডায় কাবু উত্তরের জনজীবন, দুর্ভোগ চরমে

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন। তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষরা কাজে যেতে পারছেন না। এক দিন কাজ না করলে যাদের সংসারের চুলার আগুন জ্বলে না তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার উত্তর সাপ্টানা গ্রামের দিনমজুর কান্দ্রি বালা বলেন, প্রতিদিন যা আয় করি, তাতেই চলে সংসার। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে কনকনে ঠান্ডার কারণে কাজে যেতে পারছি না। কখনো শরীরজুড়ে কাঁথা মুড়ে, আবার কখনো খড়কুটো জ্বালিয়ে দিন কাটাচ্ছি। খাবারের জন্য প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার নিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঠান্ডার কারণে বাইরে বেরোতে যেতে পারি না। যদি বাইরে যাই, অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকে। এক দিন কাজ না করলে সংসারের হালও চলে না। এখন কামাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

একই গ্রামের আরেক দিনমজুর সরো বালা বলেন, এক দিন কাজ না করলে আমাদের পরিবারের খাওয়া-দাওয়া হয় না। কনকনে শীত আর কুয়াশার কারণে বাইরে যাওয়া মুশকিল।

তার কণ্ঠে হতাশা আরও গভীর, আমাদের কম্বলও নেই। কাটা কাপড় দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। কাজ নেই, খাবার নেই, শুধু কাঁপছি।

কালীগঞ্জের কাকিনা গ্রামের কৃষিশ্রমিক মকবুল হোসেন জানান, মাঠে কাজ থাকলেও ঠান্ডার কারণে কাজ করতে পারছেন না। রাতে শীতের চোটে ঘুমও আসে না। খুব কষ্ট করছি। পেটের ভোগ তো আছেই। পরিবার মিলেমিশে খড়কুটোর আগুন জ্বালিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

একই এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী মোস্তফা হাসান বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকলেও ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়ছি। শীতার্ত দরিদ্র মানুষের কষ্ট আরও অনেক বেশি। নগরবাসী খুব প্রয়োজন না হলে এখন রিকশা ব্যবহার করছেন না।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে—রংপুরে ১১.২, লালমনিরহাটে ১২, কুড়িগ্রামে ১১.৫, গাইবান্ধায় ১১.৮, নীলফামারীতে ১১, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০.৭, সৈয়দপুরে ১০.৫ ও পঞ্চগড়ে ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে হিমেল বাতাস থাকায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে।

মঙ্গলবার থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় রংপুর অঞ্চলে ঠান্ডা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই অবস্থার আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।