ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০১:০২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকাগুলোয় নদীর পানি ঢুকে পড়ায় অনেক নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধায় তিস্তাপাড়ে বন্যার আশংকা করছেন নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে; তবে আগামীকাল রোববার সকালের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার। এ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি হু হু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ‘যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে তাই তিস্তার পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, শনিবার ভোরে তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে যেকোনো সময় বন্যা হতে পারে।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের চরটি নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন; তবে পানি আরেকটু বাড়লে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। গেল কয়েকদিন দিনে বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হু হু করে আসছে। 

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। খেতে এখন তেমন ফসল নেই। তবে আমন ধানের চারার জন্য কিছু বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। 

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম, ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশংকা রয়েছে।