মাদারীপুরের শিবচরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় চাষাবাদ ও সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তারা প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। অনেকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তেল আনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবু ৫ থেকে ১০ লিটারের বেশি তেল মিলছে না। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছেন।
কৃষকরা জানান, এখন মাঠে কৃষিকাজের ব্যস্ত সময়। জমি চাষ, সেচ এবং কৃষিযন্ত্র চালাতে ডিজেল অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু তেলের সংকটে শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র, পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর বন্ধ থাকায় অনেক জমিতে কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছিল। পরে প্রশাসনের অভিযানে শিবচরের শেখপুর বাজারের দুটি দোকান থেকে ২৮ ব্যারেল, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, দিনের পর দিন তেলের জন্য ঘুরছেন, অথচ কিছু ব্যবসায়ী গোপনে তেল মজুদ করে রাখছেন। এতে কৃষকের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
কৃষকরা বলেন, তেলের অভাবে জমি চাষ ও সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুদদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান না চালালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, অবৈধ মজুদ বন্ধ করা এবং কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক—যাতে কৃষিকাজ ব্যাহত না হয় এবং তাঁরা স্বস্তি ফিরে পান।

