মাদারীপুরের ডাসারে আব্বাস চৌধুরী (৪৫) হত্যাকাণ্ডের জেরে আসামিপক্ষের চারটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় পুরুষশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ তথ্য জানা যায় এবং ভুক্তভোগী পরিবারও বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডাসার উপজেলার খাতিয়াল গ্রামের আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার শহীদ মাতুব্বর ও আব্বাস চৌধুরীর বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ১৪ জানুয়ারি দুপুরে আব্বাস চৌধুরীকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
পরে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বোন সাহিনুর বেগম বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিপক্ষ এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এ সুযোগে গত রোববার দুপুরে ওই এলাকার মৃত করম শেখের পরিবারের চারটি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে বাদীপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভুক্তভোগী করম শেখের স্ত্রী ফুলমালা বেগম বলেন, আমরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত নই, তবুও আমাদের আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকেই আমার ছেলেরা বাড়িতে থাকে না। প্রতিশোধ নিতে তালাবদ্ধ ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
অন্যদিকে মামলার বাদী সাহিনুর বেগম বলেন, আমাদের লোকজন কোনো বাড়িঘরে হামলা বা লুটপাট করেনি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে বাঁচতে তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আব্বাস চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে বেশ কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন