পদ্মা নদীতে মাছ শিকারের নামে ভয়াবহ পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালানোর সময় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় তিনজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুজনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেন। অপর একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক পদ্মা নদীর তীরবর্তী মাছের আড়ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার রাখালগাছি গ্রামের ইব্রাহিম শেখ ও সাইফুল শেখ এবং পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ডালারচর গ্রামের কাউছার সরদার।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, অভিযানে একটি ইলেকট্রিক শক ছিপি, ১২ ভোল্টের তিনটি ব্যাটারি, প্রায় ২৬ লাখ ৮০ হাজার ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইনভার্টার (আইপিএস), দুটি ফগ লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটি ভাড়ায় চালিত হওয়ায় জব্দ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা মালামাল থানার জিম্মায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে অন্য জেলা থেকে আসা একটি চক্র নিয়মিতভাবে ইলেকট্রিক শক ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছিল। এই পদ্ধতিতে পানিতে ইলেকট্রিক ছিপি প্রবেশ করালে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার এলাকার পানির নিচে থাকা সব প্রাণী মুহূর্তেই মারা যায়। পরে বড়, মাঝারি ও ছোট মাছ ভেসে উঠলে সেগুলো সংগ্রহ করে উপজেলার বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে বিক্রি করা হতো।
শনিবার সকালে আন্ধারমানিক মাছের আড়তে ইলেকট্রিক শকে মারা মাছ বিক্রির সময় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা চারজনকে ধাওয়া করেন। এ সময় একজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে ধরে ফেলেন তারা।
হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের ইলিশ প্রকল্পের ক্ষেত্র সহকারী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ মৎস্য শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইজা বিসরাত হোসেন জানান, প্রতিবেদন পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দুইজনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।


