ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চা বাগানে গলা কেটে হত্যা, দুই আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভী চা বাগানের বাংলো টিলার ঢালে ৫ জানুয়ারি গলা কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত একটি মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহতের নাম জাকির হোসেন। জাকির হোসেনের স্ত্রী আনজিলা বেগম মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত জাকির হোসেন (৫০) সুনামগঞ্জ জেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি দিনমজুর ছিলেন এবং সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম সংলগ্ন লিয়াকত আলীর কলোনীতে ভাড়া থাকতেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে- মৌলভীবাজার পাথরটিলা থানার মৌলভী চা বাগানের লক্ষীনারায়ন রবিদাসের ছেলে আকাশ রবি দাশ (২০) ও মৌলভীবাজার সদর থানার মোকামবাজারের সেলিম মিয়ার ছেলে স্বাধীন আহমেদ (২০)।

ঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়েরের নেতৃত্বে সদর থানার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্ত শুরু হয়।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন ছুফুয়া বাবুর্চি বাজার এলাকা থেকে আকাশ এবং স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুণরায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৩০০ মিটার দূর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা এবং আসামি স্বাধীনের রক্তমাখা হুডি জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত জাকির বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে ইট, বালু ও মাটি তোলার কাজ করতেন। অপরদিকে আসামি স্বাধীনও গাড়ির বালু ও ইট তোলার পাশাপাশি হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে জাকিরের সঙ্গে স্বাধীন পরিচিত হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, জাকির ও স্বাধীনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে সমকামিতার দিকে ধাবিত হয় এবং জাকিরের সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় আকাশ মিলে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের, সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।