ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মেয়ে শেগুফতাকে সংসদে দেখতে চান খালেদা রব্বানী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
শেগুফতা রব্বানী। ছবি : সংগৃহীত

আবেগঘন পরিবেশে নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেত্রী খালেদা রব্বানী। জীবনের শেষ প্রান্তে তার মেয়ে শেগুফতা রব্বানীকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রবীণ রাজনৈতিক খালেদা রব্বানী বলেন, আমি চাই আমার মেয়ে মানুষের সেবা করুক, এলাকার উন্নয়নে কাজ করুক এবং একজন যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে নিজের অবস্থান জানান দিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা রব্বানীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। সেই ধারাবাহিকতায় তার মেয়ে শেগুফতা রব্বানীও এলাকায় মানুষের উন্নয়নে সব সময় সোচ্চার থেকেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন শেগুফতা রব্বানী। তিনি মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি চারবারের সাবেক মহিলা এমপি খালেদা রব্বানীর জ্যেষ্ঠ কন্যা।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর শেগুফতা রব্বানী বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার মা মহিলা আসনের এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলীয় সংকটকালে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও জানান, তার মায়ের শেষ ইচ্ছা হলো— মেয়েকে মনোনয়ন দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা দেখে যাওয়া। এ বিষয়ে দলের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এই আবেদন জানিয়েছেন।

শেগুফতা রব্বানী বলেন, তার মা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় মহিলাবিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবারের সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রেখে তিনিও দলের জন্য কাজ করতে চান।

এ ছাড়া তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে রাজপথে লড়াই-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলের দুঃসময়ে নানা সময় রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হলেও কখনো পিছপা হননি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছি। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) আমার আম্মাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। নানা প্রতিকূল সময় পার করেও আমরা আদর্শ থেকে সরে যাইনি। এখন আমার মা অসুস্থ। আমি বিশ্বাস করি, দলের চেয়ারম্যান আমাদের পরিবারকে মূল্যায়ন করবেন।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে শেগুফতা রব্বানী বলেন, ১৯৭৭ সালে মাত্র আট বছর বয়সে মৌলভীবাজার সফরে আসা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান তিনি। পরে সার্কিট হাউসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎও হয়, যা তার রাজনৈতিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি, কিন্তু দল ছাড়িনি, কোনো সুবিধাও নেইনি। দলের প্রতি আমাদের এই নিষ্ঠা অবশ্যই বিবেচনায় আসবে।

শিক্ষাজীবনে শেগুফতা রব্বানী মৌলভীবাজার আলী আমজদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজারের একাধিক বিএনপি নেতা জানান, শেগুফতা রব্বানী মনোনয়ন পেলে এলাকায় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাদের মতে, স্থানীয়ভাবে বেড়ে ওঠার কারণে এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির দুঃসময়ে তাদের মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা সড়কের বাসভবনটি নেতাকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের আশা, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে দলীয় কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।