ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দিপুর স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব বহন করবে সরকার : শিক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৯:২১ পিএম
বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, দিপু চন্দ্র দাসের পরিবার একা নয়, সরকার তাদের পাশে আছে। তিনি বলেন, ‘দিপু চন্দ্র দাসের সঙ্গে সরকার আছে, এ কথা জানাতেই আমি এখানে এসেছি। তার পরিবারের এই সংকটকালে আমরা তাদের পাশে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দিপুর স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের আর্থিক, আইনগতসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। আমি নিশ্চিত করতে চাই, দিপুর সন্তান ও স্ত্রীর সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার বহন করবে।’

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দিপু চন্দ্র দাসের বাড়িতে সহমর্মিতা জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না। কোনো অন্যায় হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ বসবাস করে। সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এবং রাষ্ট্র তা সম্মান করে। মতভেদ কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যুক্তি হতে পারে না।’

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। অভিযোগ, গুজব বা বিশ্বাসগত পার্থক্য এ ধরনের বর্বরতার অজুহাত হতে পারে না। সরকার সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাখে। ইতোমধ্যে দিপু হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

দুষ্কৃতকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কিছু গোষ্ঠী বিভাজন ও মতভেদ সৃষ্টি করে এসব উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের নৃশংস কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।’

এসব ঘটনায় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনে কোনোভাবেই প্রভাব ফেলবে না এবং বাইরের কোনো উসকানিও নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারবে না।

তিনি বলেন, দিপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো যুক্তি নেই।

এর আগে একই দিন দুপুর ১২টায় নিহত দিপু চন্দ্র দাসের বাড়িতে যান নাগরিক কোয়ালিশন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম।

এ সময় তিনি ও অন্যান্য মানবাধিকার কর্মীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শহিদুল আলম বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে। এভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের কাম্য নয়। আমরা স্বৈরাচারমুক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘বিনা প্রমাণে একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার মরদেহের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এসেছি ন্যায়বিচারের দাবিতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।’

তিনি আরও বলেন, দিপু দেড় বছরের একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দিপুর শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দাবি।

তিনি বলেন, মানুষকে উসকানি দিয়ে মব তৈরি করে কারও ক্ষতি করা যাবে না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন: মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির জাকির হোসেন, সম্প্রীতি যাত্রার ফেরদৌস আরা রুমি, মানবাধিকার কর্মী দিপায়ন খীসা, বিডিই আরএম শিপন কুমার রবিদাস, এএলআরডি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু দাস ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা থানায় অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।