ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শেষ শ্রদ্ধার পর সমাধিস্থ হলেন বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার। তার শেষ ইচ্ছা পূরণে সমাধিস্থ করা হলো তাকে।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার মরদেহ নেওয়া হয় ময়মনসিংহের টাউন হলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়াও শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে ছুটে আসেন অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীরজাদা শহীদুল হারুনসহ শিল্পীর শীষ্য-ভক্তসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরে সন্ধ্যার দিকে শিল্পীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়ায় সমাধিস্থ করা হয় সুনীল কর্মকারকে।

এদিকে তাকে শ্রদ্ধা জানানো শেষে অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীরজাদা শহীদুল হারুন বলেন, আজকে সংস্কৃতিক অঙ্গন সবচাইতে বিষাদময়। যারা দেহতত্ত্ব, ক্ষুধাতত্ত্ব, ভাবতত্ত্ব জানেন, তাদের মধ্যে পথিকৃৎ ছিলেন সুনীল কর্মকার। সুনীল কর্মকার শুধু ময়মনসিংহের সন্তান নয় তিনি সারা বাংলাদেশের সম্পদ ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সুনীল কর্মকারের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। অথচ এমন একজন গুণী মানুষের ক্ষেত্রে যখন দেশের দুইটি শীর্ষ রাষ্ট্রীয় সম্মান উপেক্ষিত থাকে, তখন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের উচিত ছিল জীবিত অবস্থায়ই তার অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়া।

সুনীল কর্মকার যেন একুশে পদক পান- এ জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবেও চেষ্টা চালাবেন উল্লেখ করে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুনীল কর্মকারের গান ও সৃষ্টিকর্মগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে। আমরা সুনীল কর্মকারের মতো মানুষের যথাযথ মূল্যায়ন দেখতে চাই। জীবিত অবস্থায় তা সম্ভব না হলেও, মৃত্যুর পর অন্তত যেন তিনি তার প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি পান- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এর আগে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুস, কিডনিসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বার্নাল গ্রামে জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকার মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠে আসর মাতিয়ে তুলতেন তিনি। বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম- একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এই শিল্পী।

শৈশবে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে চোখের আলো হারান। দৃষ্টিহীন এই শিল্পী জীবন গড়ে তোলেন গানের সঙ্গে। মরমি কবি জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর করে কণ্ঠ দিয়েছেন সুনীল কর্মকার। তার নিজের লেখা গানের সংখ্যা প্রায় দুইশ। তিনি বাউল, মালজোড়া গান, মহাজনি গান ও লোকসংগীতের স্বনামধন্য শিল্পী ছিলেন।

লোকসংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পকলা পদক লাভ করেন।