ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নগরের শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত এই কার্যালয়টি ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এতে নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১০-১২ জন নেতা এবং কয়েকজন শ্রমিক বড় হাতুড়ি, রডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে কার্যালয়টিতে উপস্থিত হন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যালয়ের সামনের দেয়াল, প্রধান ফটক ও দরজা-জানালা ভেঙে ফেলেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের সামনে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গত দুইদিন আগে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোকে গণশৌচাগার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আল নূর মোহাম্মদ আয়াস গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই কার্যালয়ে এসে ফুল দিয়েছে এবং পতাকা উত্তোলন করেছে। এই ঘটনার দুইদিন পার হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফ্যাসিবাদের দোসররা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তারা ফিরে এসে প্রথমেই বিপ্লবীদের ওপর আঘাত করবে। তাদের এখনই নির্মূল করা না হলে তারা ভয়ানক রূপ ধারণ করবে। সেই ক্ষোভ থেকেই আমি প্রতিবাদ হিসেবে এই কার্যালয় ভেঙে দিয়েছি।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে কার্যালয়টি ভাঙচুর করে ছাত্র-জনতা। এবার কার্যালয়টির ফটকের পাশের দেয়ালটি একেবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


