ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রূপালী বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ

মিলেছে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়ের সত্যতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফেসবুক পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায় করার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। 

উপজেলা আছিম পাটুলি ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে টাকা আদালয়ের এই অভিযোগ উঠে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের অনলাইনে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়, সমালোচনার মুখে টাকা ফেরতের ঘোষণা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া পত্রিকাটির প্রিন্টে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে ১০০ টাকা করে আদায়!’ শিরোনামে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

পরে সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসন ফ্যমিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারা দেশে নারীদের মাঝে ফ্যমিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জেলার নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাম না থাকার পরেও উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস তার ফেসবুক আইডি একটি পোস্ট দেন। ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো নামের প্রয়োজন নেই। এনআইডি কার্ড, এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নাম্বার এবং স্ব-হস্তে স্বাক্ষর থাকলেই আবেদন করা যাবে। বিঃদ্র, শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবে। আমরা অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশনা পাইনি কিন্তু অনলাইনে আবেদন হচ্ছে। এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন।

চেয়ারম্যানের ফেসবুকে এমন ঘোষণা পর গত ২৬ ফেব্রুযারি ফ্যামেলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা আদালয়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিযন পরিষদের কার্যালয়ের। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামী রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আগামী রোববার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।