× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

২৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা হারুনের মানবেতর জীবনযাপন

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

প্রায় ২৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মানসিক ভারসাম্যহীন হারুন (৪২)। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় দিনদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

স্বামী পরিত্যক্তা রেজিয়া খাতুন ছেলের সেবা-শুশ্রূষা করে ক্লান্ত ও অসহায় হয়ে পড়েছেন। ক্ষোভ ও দুঃখে তিনি বলেন, ‘আমিও মরি না, পাগল ছেলেও মরে না।’

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের পূর্ব দরিল্যা গ্রামের বাসিন্দা রেজিয়া খাতুনের একমাত্র পুত্র হারুন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আধাভাঙা একটি ঘরের নোংরা বারান্দায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন হারুন। তার মাথা ও মুখে আধাপাকা চুল-দাড়ি। পরনে ছেঁড়া ও নোংরা জিন্সের প্যান্ট এবং গায়ে নীল রঙের ছেঁড়া কম্বল।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ থেকে বিএ পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন হারুন। কিন্তু এরপরই তার মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়ে বর্তমানে শিকলবন্দী অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

মা রেজিয়া খাতুন প্রতিদিন থালায় করে খাবার নিয়ে গিয়ে নিজ হাতে ছেলেকে খাইয়ে দেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাবার দিতে গেলে হারুন কখনও কখনও মাকে মারধর করেন এবং কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলেন বলে জানান তিনি।

প্রতিবেশী কাছুম আলী বলেন, হারুনের ভালো চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো সে সুস্থ হয়ে উঠত। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

তিনি আরও বলেন, মাঝেমধ্যে হারুন এমন কথা বলেন, যা শুনে বোঝা যায় না তার মানসিক সমস্যা আছে। তিনি ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন।

মা রেজিয়া খাতুন বলেন, ছেলে হারুনকে নিয়ে আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। আমি মারা গেলে তাকে কে দেখবে? আমিও মরি না, পাগল ছেলেও মরে না।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানা বলেন, বিস্তারিত শুনে মনে হচ্ছে যথাযথ চিকিৎসা পেলে হারুন সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। এক্ষেত্রে তাকে ময়মনসিংহ নয়, ঢাকায় মানসিক রোগ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!